রেমিট্যান্সে শীর্ষে বাংলাদেশের যে ১০ জেলা, 2025-26 অর্থবছরে কার আয় কত?

By Md Parvaj

August 13, 2026 3:10 pm

রেমিট্যান্সে শীর্ষে বাংলাদেশের যে ১০ জেলা, 2025-26 অর্থবছরে কার আয় কত?

২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। পুরো অর্থবছরে দেশে এসেছে প্রায় ৩৫.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছর ২০২৪–২৫-এর ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৭.৩৫ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্সে এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

Xiaomi Redmi K100 Pro-এর সম্ভাব্য দাম, লঞ্চ তারিখ, স্পেসিফিকেশন, ক্যামেরা, প্রসেসর, ডিসপ্লে, ব্যাটারি ও 5G ফিচার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

জেলাভিত্তিক হিসাবেও দেখা গেছে, কয়েকটি জেলা দীর্ঘদিনের মতো এবারও রেমিট্যান্স গ্রহণে এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলার অবস্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঢাকা জেলায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১৩.৪৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল চট্টগ্রাম জেলা, যেখানে এসেছে ৩.২৭ বিলিয়ন ডলার

২০২৫–২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে বাংলাদেশের শীর্ষ জেলা

রেমিট্যান্সে শীর্ষে থাকা জেলাগুলোর তালিকায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি কুমিল্লা, সিলেট, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার নাম রয়েছে। এসব জেলার বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বিভিন্ন দেশে কর্মরত থাকায় নিজ নিজ এলাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহও তুলনামূলক বেশি।

রেমিট্যান্সে শীর্ষ ১০ জেলার তালিকা

অবস্থান জেলা ২০২৫–২৬ অর্থবছরের অবস্থা
ঢাকা সর্বোচ্চ
চট্টগ্রাম দ্বিতীয় সর্বোচ্চ
কুমিল্লা তৃতীয় অবস্থানে
সিলেট শীর্ষস্থানীয় জেলা
নোয়াখালী শীর্ষ ১০-এর মধ্যে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শীর্ষ ১০-এর মধ্যে
ফেনী শীর্ষ ১০-এর মধ্যে
চাঁদপুর শীর্ষ ১০-এর মধ্যে
নরসিংদী উল্লেখযোগ্য রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত জেলা
১০ মুন্সিগঞ্জ উল্লেখযোগ্য রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত জেলা

নোট: জেলা-ভিত্তিক রেমিট্যান্সের পূর্ণ বছরের র‍্যাংকিং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত তালিকায় পরিমাণের উপস্থাপনায় সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। তাই এখানে যাচাই করা তথ্যের বাইরে কোনো অনুমানভিত্তিক ডলার অঙ্ক যোগ করা হয়নি।

ঢাকায় সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স

রেমিট্যান্সে দেশের অন্য সব জেলার তুলনায় ঢাকা অনেক এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলা একাই প্রায় ১৩.৪৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। অর্থাৎ দেশের মোট রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ এই জেলা দিয়ে এসেছে।

রেমিট্যান্সে শীর্ষে বাংলাদেশের যে ১০ জেলা, 2025-26 অর্থবছরে কার আয় কত?

ঢাকার এই অবস্থানের পেছনে দেশের সবচেয়ে বড় জনসংখ্যা, বিদেশে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষ এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের কেন্দ্র হিসেবে জেলার ভূমিকা রয়েছে। ফলে রেমিট্যান্সে ঢাকার আধিপত্য শুধু প্রবাসী কর্মসংস্থানের কারণে নয়, অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে জেলার আর্থিক অবকাঠামোরও প্রভাব রয়েছে।

চট্টগ্রাম দ্বিতীয় অবস্থানে

রেমিট্যান্সে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম প্রায় ৩.২৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে।

চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী কর্মসংস্থানপ্রবণ অঞ্চল। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মরত। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহের দিক থেকে চট্টগ্রাম নিয়মিতভাবেই দেশের শীর্ষ জেলাগুলোর একটি।

কুমিল্লার অবস্থানও শক্তিশালী

রেমিট্যান্সে কুমিল্লাও দীর্ঘদিন ধরে দেশের শীর্ষ জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন সময়ের বাংলাদেশ ব্যাংকের জেলা-ভিত্তিক তথ্যেও কুমিল্লাকে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যতম বড় রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত জেলা হিসেবে দেখা গেছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কুমিল্লায় প্রায় ৮৭.৮৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। একই সময়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর কুমিল্লার অবস্থান ছিল শক্তিশালী।

সিলেট ও নোয়াখালীতেও বড় রেমিট্যান্স প্রবাহ

রেমিট্যান্সে সিলেটের অবস্থানও উল্লেখযোগ্য। ঐতিহাসিকভাবেই সিলেটের বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাস ও কর্মরত। ফলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে সিলেটের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে নোয়াখালীও শীর্ষ রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেটের পর নোয়াখালী অন্যতম বড় রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত জেলা ছিল।

চট্টগ্রাম বিভাগের আধিপত্য

রেমিট্যান্সে চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা বিশেষভাবে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের তথ্য অনুযায়ী শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ছয়টি জেলা ছিল—চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর।

এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে চট্টগ্রাম বিভাগের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য শ্রমবাজারে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অভিবাসন নেটওয়ার্ক রয়েছে।

২০২৫ ও ২০২৬ সালের রেমিট্যান্সে বড় পরিবর্তন

২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ পেয়েছিল প্রায় ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৭.৩৫ শতাংশ

অর্থবছর মোট রেমিট্যান্স পরিবর্তন
২০২৪–২৫ ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার
২০২৫–২৬ ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার ১৭.৩৫% বৃদ্ধি

এই প্রবৃদ্ধি দেখায় যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বৈধ পথে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কোন জেলায় রেমিট্যান্স কম এসেছে?

শুধু শীর্ষ জেলাগুলো নয়, রেমিট্যান্সে সবচেয়ে কম পাওয়া জেলাগুলোর তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে লালমনিরহাটে সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে—প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় জেলাটির রেমিট্যান্স ২৭.৩ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে পঞ্চগড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩৮.৩ শতাংশ কমেছে, যা জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি

২০২৫–২৬ অর্থবছরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো চট্টগ্রাম জেলার রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চট্টগ্রামকে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ শুধু মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণের দিক থেকেই নয়, প্রবৃদ্ধির দিক থেকেও চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।

কেন কয়েকটি জেলা রেমিট্যান্সে এগিয়ে?

রেমিট্যান্সে জেলার অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করে ওই জেলার কত মানুষ বিদেশে কর্মরত, কোন কোন দেশে তারা কাজ করছেন এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে কত অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন তার ওপর।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো জেলাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে কর্মসংস্থানের একটি শক্তিশালী সামাজিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের অনেক মানুষও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।

এ কারণে এসব জেলার পরিবারগুলোতে বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের প্রবাহ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠালে তা পরিবারের দৈনন্দিন খরচ, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা এবং সঞ্চয়ে ব্যবহৃত হয়।

একই সঙ্গে রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন।

২০২৫–২৬ অর্থবছরের রেমিট্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • মোট রেমিট্যান্স: প্রায় ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার
  • আগের অর্থবছর: প্রায় ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার
  • বার্ষিক প্রবৃদ্ধি: প্রায় ১৭.৩৫ শতাংশ
  • সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত জেলা: ঢাকা
  • দ্বিতীয়: চট্টগ্রাম
  • তৃতীয়: কুমিল্লা
  • সর্বনিম্ন রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত জেলা: লালমনিরহাট
  • লালমনিরহাটের রেমিট্যান্স: প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার
  • সবচেয়ে বেশি পতন: পঞ্চগড়, ৩৮.৩ শতাংশ
  • সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি: চট্টগ্রাম

শেষ কথা

২০২৫–২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হলো রেকর্ড ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয়। জেলা-ভিত্তিক হিসাবে ঢাকা সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, নোয়াখালীসহ আরও কয়েকটি জেলা দেশের রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখেছে।

অন্যদিকে লালমনিরহাট ও পঞ্চগড়ের মতো কিছু জেলায় রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। তাই ভবিষ্যতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের সব অঞ্চল থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যবস্থা আরও সহজ করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জেলা-ভিত্তিক তথ্য নিয়মিত পরিবর্তিত ও হালনাগাদ হতে পারে। তাই নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ হলে এই তালিকাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

তথ্যসূত্র

Md Parvaj

Founder, PriyoBlog.com. Sharing simple, high-value content on tech, blogging, and digital income.

Related Post

Leave a Comment