ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট খুলুন নতুন নিয়মে ২০২৬ এ টু জেড সম্পূর্ণ গাইডলাইন

Posted by: Md Parvaj • 21/07/2026
Share:

ওয়ার্ডপ্রেসে একটি ওয়েবসাইট থাকা মানে আপনার খুব প্রয়োজনীয় এবং ব্যক্তিগত অথবা ব্যবসায়িকের জন্য এটি আপনাকে অনেক দুর নিয়ে যাবে।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের সাথে নিজের পরিচয় কে তোলার জন্য এবং পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকা প্রয়োজন । আর এই ওয়েবসাইট খোলার জন্য একমাত্র বিশ্বস্ত ইনকাম করার সাইট হল ওয়ার্ডপ্রেস সাইট। প্রিয় ব্লগে আজকে আর্টিকেলে আমরা সম্পূর্ণভাবে দেখিয়ে দিব কিভাবে আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করবেন নিজে নিজেই।

যদি আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকে তাহলে আপনি নিজেই খুব সহজে সারা বিশ্বের কাছে আপনার কিছু তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারবেন এবং আপনার আইডিয়া ও প্রকাশ করতে পারবেন । আমরা অনেকেই সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই কাজে নামলে পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যায় পডে যায়। শুরুর দিকে সঠিক নির্দেশনা মেনে কাজ করলে সময়ও অর্থ দুইটাই আমাদের বাঁচে এই আর্টিকেলটি আপনারা মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি নিজেই খুব সুন্দর করে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট খোলার নিয়ম ও পরিকল্পনা ।

নতুন একটি ওয়েবসাইট চালু করার আগে কিছু বিষয়ে আমাদের অনেক ধারণা থাকা প্রয়োজন আপনি যখন ওয়ার্ডপ্রেসে ওয়েবসাইট খুলবেন তখন প্রথম কাজ হল ওয়েবসাইটের বিষয় নির্ধারণ করা আপনার ওয়েবসাইটটি কোন বিষয়ে তৈরি করবেন অনেক ধরনের বিষয় দেওয়া আছে যেমন টেকনোলজি ই-কমার্স নাকি ব্যক্তিগত এবং পোর্টফোলিও হবে তা আগে ঠিক করবেন লক্ষ-নির্দিষ্ট না থাকলে কখনো কনটেন্ট তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে আমাদের সবার ।

আপনার বিষয় নির্বাচনের পর আপনার ওয়েবসাইটে একটি প্রাথমিক নকশা বালে আউট তৈরি করুন কোন পেজে কি তথ্য থাকবে এবং কারা আপনার পাঠক হবে তা সুন্দর করে খাতায় লিখুন একটি গোছানো পরিকল্পনা আপনার কাজের গতি অনেক বাড়িয়ে দেয়।

আপনার ভুল পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করলে পরবর্তীতে ডিজাইন পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে যাবে । আপনার স্যারের জন্য শুরুর দিকে কেমন বাজেট লাগবে তার হিসাব করুন কিনতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমাণ খরচ হয় । আপনার কাজ শুরু করার আগেই আপনার খরচ নির্ণয় করে কাজ শুরু করতে হয় তাহলে সঠিক লক্ষ্য নিয়ে আপনি অনলাইন যাত্রা শুরু করলে সফল হবেন।

ডোমেন নাম নির্বাচন এবং কেনার সঠিক উপায় কিভাবে জানবেন

ডোমেইন হলো আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের নাম যা লিখে ভিজিটররা আপনাকে খুঁজে পাবে ।একটি সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম আপনার ব্র্যান্ডের পরিচিত অনেক বাড়িয়ে দেয় আপনার ডোমেইন নাম পছন্দ করার সময় লক্ষ্য রাখবেন যেন সেটি সংক্ষিপ্ত সহজ বানানের হয় যদি জটিল নাম হয় তাহলে মানুষ সহজে মনে রাখতে পারে না।

ডোমেন এক্সটেনশন হিসেবে ডটকম ব্যবহার করার সবচেয়ে উত্তম সিদ্ধান্ত কারণ এটি আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত এবং মানুষের কাছে খুবই বিশ্বস্ত একটি নাম আপনার কাঙ্ক্ষিত নাম পাওয়া যাবে কিনা তা বিভিন্ন ডোমেন রেজিস্টার সাইটে চেক করে দেখতে পারেন। বর্তমানে সারা বিশ্বের দুটি নাম সবচেয়ে সেরা আর সেটি হলো নেমসিপ এবং হোস্টিংগার আপনি চাইলে এই নামগুলোতেও রেজিস্ট্রেশন করে চেক করতে পারেন আপনার ডোমেইন।

একটা কথা মনে রাখবেন অন্য কোন বড় কোম্পানির নামের সাথে মিল রেখে কখনো ডোমেইন সিলেক্ট করবেন না অথবা রেজিস্ট্রেশন করবেন না এতে ভবিষ্যতে আপনার কপিরাইট বা আইনি সমস্যায় পড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। নামের মধ্যে আপনার কাজের ইঙ্গিত থাকলে তা বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়। পছন্দ মত ডোমেইন নাম খালি পেলেই তা দ্রুত নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করে নিন।

সেরা ওয়েব হোস্টিং প্রোভাইডার কিভাবে নির্বাচন করবেন

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েব হোস্টিং হল ইন্টারনেটের একটি নির্দিষ্ট জায়গা যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের ফাইল জমা থাকে। ভালো হোস্টিং ছাড়া ওয়েবসাইটের গতিও নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব নয়। বাজারে অনেক হোস্টিং কোম্পানি থাকলেও সবার সে আবার মান একরকম হয় না কারণ দ্রুতগতির হোস্টিং আপনার ওয়েবসাইটের পারফরম্যান্স ঠিক রাখবে।

শুরুর দিকে আপনার শেয়ার্ড হোস্টিং প্যাকেজ কেনা আপনার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। কারণ হোস্টিংগার বা ব্লু হোস্টের মত কোম্পানিগুলো নতুনদের জন্য বেশ ভালো মানের সার্ভিস দেয়। হোষ্টিং কেনার সময় ফ্রি এসএসএল সার্টিফিকেট দিচ্ছে কিনা তা ভালো করে যাচাই করে নিবেন। Ssl আপনার ওয়েবসাইটের ডাটা সুরক্ষিত রাখতে অনেক সাহায্য করে । অতিরিক্ত কম দামে হোস্টিং ব্যবহারের লোভ করা বন্ধ করুণ । ফ্রি হোস্টিং এর সাইট বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ভালো মানের এসএসডি হোস্টিং ব্যবহার করলে আপনার ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হবে, এবং দ্রুত লোড হওয়া সাইট পাঠকরা যেমন সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে । তেমন সার্চ ইঞ্জিন ও পছন্দ করেন।

ডোমেইন এবং হোস্টিং একসাথে কানেক্ট করবেন যেভাবে

আমরা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ডোমেইন হোস্টিং কিনলে তা যুক্ত করতে হয়। এই সংযোগ স্থাপনের মূল মাধ্যমটিকে বলা হয় নেম সার্ভার। হোস্টিং কেনার পর আপনার ইমেইলের কিছু কোড পাঠানো হয় । সেই কোড গুলো আপনার ডোমেইন কন্ট্রোল প্যানেলে বসাতে হয় কানেক্ট করার জন্য প্রথমে রেজিস্টার এর একাউন্টে প্রবেশ করতে হয়। সেখানে ডিএনএস সেটিং অপশনে গিয়ে কাস্টম নেম সার্ভার সিলেক্ট করুন।

হোস্টিং থেকে পাওয়া নেম সার্ভারগুলো সেখানে বসিয়ে আপডেট করুন এই সংযোগ সম্পূর্ণ হতে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টা সময়ও লাগতে পারে। তবে বিশেষ করে সঠিকভাবে বসালে আপনার দুই থেকে ১৫ মিনিটের ভিতরে কানেক্ট হয়ে যায়।

কানেকশন ঠিক হয়েছে কিনা তা ব্রাউজারের লিখে সার্চ করে দেখতে পারেন। হোস্টিং এর ডিফল্ট পেজ দেখা গেলে বুঝবেন কাজ সফল হয়েছে এবার আপনি ওয়েবসাইট তৈরির মূল কাজ শুরু করতে পারেন।

সিপ্যানেল থেকে ওয়ান ক্লিক ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া কিভাবে করবেন।

হোস্টিং যুক্ত করার পর হোস্টিং এর সিপ্যানেলে প্রবেশ করতে হয়। আপনার হোস্টিং কোম্পানি আপনাকে লগইন করার ইউজারনেমও পাসওয়ার্ড দেবে। সিপ্যানেল হল আপনার হোস্টিংয়ের মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এখান থেকে খুব সহজেই সফটওয়্যার ইনস্টল করা হয় সেখানে লগইন করার পর সফ্টকুলাস অ্যাপস ইনস্টলার অপশনটি খুজে বের করুন সেখানে ওয়ার্ডপ্রেস লোগোতে ক্লিক করলে ইন্সটল করার পেজ আসবে এরপর আপনাকে সাইটের নাম ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিতে হবে । এ তথ্যগুলো পরবর্তীতে আপনার সাইট লগইন করতে প্রয়োজন হবে।

এডমিন পাসওয়ার্ডটি অবশ্যই একটু কঠিন ও শক্তিশালী দেওয়ার চেষ্টা করবেন। কারণ সব তথ্য পূরণ করা শেষ হলে নিচে থাকায় ইনস্টল বাটনে ক্লিক করবেন, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সফটওয়ারটি ডোমেনে সফলভাবে ইন্সটল হয়ে যাবে এরপর আপনি সাইটের ব্যাক-এন্ডে প্রবেশ করতে পারবেন ।
ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ড এর সাথে পরিচিত এবং কিছু বেসিক সেটিংস।

ইন্সটল করার পর আপনার ডুমিনের শেষে ডব্লিউপি এডমিন লিখে সার্চ করুন । আপনার দেওয়া ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে ড্যাশবোর্ডে লগইন করুন । এই ড্যাশবোর্ড থেকে ওয়েবসাইটের সব কাজ আপনি করতে পারবেন প্রথম থেকে এই অপশন গুলো বেশি মনে হলেও আস্তে আস্তে সব সহজ হয়ে যাবে আপনার কাছে।

ড্যাশবোর্ডের বাম পাশে পোস্ট পেজ অ্যাপিয়ারেন্স ও সেটিংস এর মত অপশন দেখতে পাবেন। কোন কন্টেন লেখার আগে কিছু জরুরী সেটিংস পরিবর্তন করা প্রয়োজন সেটিংস থেকে জেনারেল অপশনে গিয়ে আপনার স্থানীয় সময় বা টাইম ঠিক করুন সাইটের বাসা ঠিক আছে কিনা তাও চেক করে নিন। এর পরেও সেটিংস থেকে পারমালিংক অপশনে গিয়ে পোস্টের নাম সিলেক্ট করতে পারেন এটি করলে আপনার আর্টিকেলের সব লিংক গুলো দেখতে সুন্দর সংক্ষিপ্ত হবে। এই পরিবর্তনটি আপনার ওয়েবসাইটের এসইও পারফরমেন্স ভালো করতে সাহায্য করে সবশেষে চেঞ্জ বাটনে ক্লিক করে সেটিংসটি সংরক্ষণ করে রাখুন।

কিভাবে সঠিক থিম নির্বাচন এবং প্রফেশনাল ডিজাইন এপ্লাই করবেন?

আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইন কেমন হবে তা নির্ভর করে থিমের উপর ওয়ার্ডপ্রেসে কিন্তু প্রচুর থিম ফ্রীতে পাওয়া যায় যা দিয়ে কাজ শুরু করা সম্ভব থিম নির্বাচনের সময় লক্ষ্য রাখবেন যেন সেটি হালকা ও দ্রুতগতির হয় বেশি বারি থিম ব্যবহার করলে সাইটের লোডিং স্পিড কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

যারা নতুন ব্যবহার করেন তাদের জন্য astra থিম অথবা জেনারেটপ্রেস থিম ব্যবহার করা সবচেয়ে বেশি সুবিধা জনক। থিম ইনস্টল করতে ড্যাশবোর্ডের অ্যাপিয়ারেন্স থেকে থিমস অপশনে চলে যান। অ্যাড নিউ বাটনে ক্লিক করে পছন্দের থিমের নাম লিখে সার্চ করুন থিমটি চলে এলে ইনস্টলও এক্টিভেট বাটনে ক্লিক করুন। এটি এক্টিভেট করার পর আপনি আপনার লোগো কালার পরিবর্তন করতে পারবেন আপনার মন মত আজকাল ফেস বিল্ডার ব্যবহার করে কোডিং ছাড়াই সুন্দর ডিজাইন করা যায় থিমের সাথে থাকা ডেমো ডিজাইন ইমপোর্ট করেও কাজ সহজ করা যায়। আপনার পছন্দমত লে-আউট সাজিয়ে নিয়ে মূল কাজ শুরু করতে পারবেন ।

প্রয়োজনীয় প্লাগিন ইনস্টল করবেন যেভাবে

প্লাগইন হল ছোট ছোট টুল যা সাইট নতুন ফিচার যোগ করে যেমন কন্টাক্ট ফর্ম তৈরি করতে হলে একটি প্লাগইন এর সাহায্য নিতে হয় প্লাগইন যুক্ত করতে ড্যাশবোর্ডএর প্লাগইন থেকে এড নিউ অপশনে চলে যাবেন তবে প্রয়োজনের বাহিরে ব্যবহার করলে আপনার সাইট স্লো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

একটা নতুন সাইটের জন্য এই প্লাগইন ইন্সটল করা সবচেয়ে বেশি জরুরী।

  1. Rankmath প্লাগইন
  2. ক্লাসিক এডিটর
  3. কন্ট্যাক্ট ফর্ম
  4. Wp রকেট
  5. কোড স্নিপেট
  6. Imagify প্লাগিন
  7. সাইট কিট প্লাগিন

এই প্লাগিন গুলো ইন্সটল করার পর সেটিং থেকে অবশ্যই একটিভ করতে হবে প্রতিটি প্লাগিনের নিজস্ব সেটিংস পেজ থেকে প্রয়োজনীয় কনফিগারেশন সেট করে নিন অপ্রয়োজনীয় বা অব্যবহৃত প্লাগইন আপনার সাইটে জমিয়ে রাখবেন না সেগুলো ডিলিট করে দিন যাতে আপনার সাইটের কার্যক্ষমতা ও গতি ভালো থাকে।

প্রয়োজনীয় পেজ এবং মেনুবার কিভাবে তৈরি করবেন

একটি গোছানো ওয়েবসাইটে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফেইজ অবশ্যই থাকা প্রয়োজন আর এই ফেইজ গুলো আপনার সাইটে নির্ভরযোগ্যতা ও পেশাদারিত্ব খুব বেশি প্রকাশ করে ফেইজ তৈরি করতে আপনি কি করবেন এবং কি কিভাবে করবেন তা নিচে সম্পূর্ণ দেওয়া হলো :

সর্বপ্রথম ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে অ্যাডমিন প্যানেলে চলে যাবেন
যাওয়ার পর ওখানে দেখবেন এড নিউ ফেজ নামে অপশন থাকবে আপনি ওই অপশনে ক্লিক করবেন তারপরে আপনার সাইটের যোগাযোগ পেইজ ও আমাদের সম্পর্কে পেজ তৈরি করবেন।

আর এই পেজগুলো না থাকলে ভবিষ্যতে আপনি বড় বড় সাইট থেকে মনিটাইজেশন নাও পেতে পারেন।এই পেজগুলো লেখা যেন স্পষ্ট ও সহজ বোধ্য হয় সেদিকে বিশেষ করে খেয়াল রাখবেন।

পেজ গুলো তৈরি করার পর সেগুলোকে মেনুবারে যুক্ত করতে হবে। মেনু বার সাজাতে অ্যাপিয়ারেন্স থেকে মেনু অপশনের প্রবেশ করুন একটি নতুন মেনু তৈরি করুন আপনার পেজগুলো সেখানে সিলেক্ট করে দিন বাটনে ক্লিক করুন।

নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন তাহলে বুঝতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট

এসইও ফ্রেন্ডলি ব্লগ পোষ্ট লেখার নিয়ম

আপনার ওয়েবসাইটের সবকিছু সেটিং করার পর কনটেন্ট লেখার কাজ শুরু করুন।কনটেন্ট ভালো না হলে সাইটে ভিজিটের ধরে রাখা সম্ভব না । নতুন পোস্ট লিখতে ড্যাশবোর্ডের পোস্ট থেকে এড নিউ অপশনে ক্লিক করবেন এখানে লেখার জন্য একটি সহজ এডিটর পেয়ে যাবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট

আগেই আমি আপনাদেরকে কয়েকটি প্লাগিন এর কথা বলছিলাম তার ভিতরে একটা প্লাগিন ছিল ক্লাসিক এডিটর আপনার কাজ হল এই প্লাগিনটি এক্টিভেট করা যদি মোবাইল দিয়ে ইউজ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই এটিই ব্যবহার করবেন আর যদি আপনারা কম্পিউটারে ব্যবহার করেন সে ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করতে পারেন অথবা চাইলে আপনি ডিএকটিভ করে দিতে পারেন সেটা আপনার উপর নির্ভর করবে।

পোস্ট লেখার সময় মূল কীওয়ার্ড প্রথম প্যারাগ্রাফে রাখবেন। লেখাটি পড়ার সুবিধার্থে ছোট ছোট অনুচ্ছেদে ভাগ করে লিখুন বিভিন্ন পয়েন্ট হাইলাইট করে সাবহেডিং ব্যবহার করা বেশ কার্যকর।এবং মনে রাখবেন আর্টিকেলের সাথে মিল রেখে ছবি যোগ করে রাখবেন তাহলে দেখতেও সুন্দর লাগবে সবাই বুঝবে আপনি কি নিয়ে এই আর্টিকেলটি লিখেছেন।

তারপর পোস্টের ডানপাশ থেকে সঠিক ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে দিন একটি সুন্দর ফিউচার ইমেজ বা থাম্বেল ছবি আপলোড করুন আপনার রেঙ্ক ম্যাথ এসইও প্লাগইন লেখার পাশে একটি স্কোর দেখাবে । সব নির্দেশনা ঠিকঠাক পালন করা হলে পোস্টটি রিভিউ করে দেখুন কোন সমস্যা আছে কিনা। যদি কোন সমস্যা না থাকে তাহলে পাবলিশ করে দিন।

ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ও ব্যাকআপ।

ওয়েবসাইট তৈরি করার পর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ ইন্টারনেটে হ্যাকিং বা ম্যালওয়্যারের আক্রমণ থেকে সাইটকে রক্ষা করতে হবে আপনার নিজেকে। নিরাপত্তার প্রথম নিয়ম হল সবচেয়ে শক্তিশালী ও বড় পাসওয়ার্ড আপনি ব্যবহার করবেন। সাইটের থিম ও প্লাগিন নিয়মিত আপডেট করতে থাকুন।

সুরক্ষা পাঠাতে ভালো মানের সিকিউরিটি প্লাগইন ব্যবহার করতে পারেন এগুলো সাইটের ফাইল স্ক্যান করে কোন ক্ষতিকারক কোড থাকলে তা জানিয়ে দেয় হোস্টিং প্যানেলে ২ ফ্যাক্টর অথেন্টিফিকেশন এটি ব্যবহার করবেন ।তাহলে কখনোই আপনার সাইটটি আর হ্যাকার হ্যাক করতে পারবে না।

এটি হ্যাকারদের হাত থেকে আপনার সাইটকে অনেক রক্ষা করতে সাহায্য করবে নিরাপত্তার পাশাপাশি নিয়মিত সাইটের ব্যাকআপ রাখা লাইফ সেভিং হতে পারে আপনার জন্য। কোন কারনে সাইট নষ্ট হলে ব্যাকআপ ফাইল দিয়ে তা পুনরুদ্ধার করা যায় ক্লাউড স্টোরে বা google ড্রাইভে ব্যাকআপ ফাইল জমা রাখার ব্যবস্থা করুন এতে কোন দুর্ঘটনা ঘটলেও আপনার পরিশ্রম বৃথা যাবে না।

কিছু প্রধান ওয়ার্ডপ্রেস প্লাটফর্মের তুলনা নিচে দেওয়া হল
বৈশিষ্ট্য সেল্ফ হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস ফ্রি হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস
খরচ অ্যাপস ফ্রি হোস্টিং কিনতে হয় তাহলে ব্যবহার করা যায় প্রাথমিক সুবিধা ফ্রি দেয় কিন্তু সীমিত কিছু ফিউচার
নিয়ন্ত্রণ সাইটের সম্পূর্ণ মালিকানা আপনার হাতে থাকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ওয়ার্ডপ্রেস কোম্পানির হাতে আপনি কিছুই করতে পারবেন না
প্লাগিন ব্যবহার যেকোনো প্লাগইন ইন্সটল করতে পারবেন রিপ্লাই নাই প্লাগিন ব্যবহার করা যায় না কোনরকমে
বিজ্ঞাপন থেকে আয় নিজের ইচ্ছা মত আয় করতে পারবেন ফ্রি ফ্ল্যানে নিজের বিজ্ঞাপন দেওয়া যায় না সব তাদের বিজ্ঞাপন

একটি সফল ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে আপনাকে এই নিয়মগুলো ধাপে ধাপে মানা প্রয়োজন। সঠিক পদ্ধতিতে আপনি যদি কাজ করেন খুব কম সময়ে একটি সাইট লাইভ করতে পারবেন। শুরুর দিকে কিছুটা কঠিন মনে হলেও চর্চা করলে সহজ হয়ে যাবে । নিজের একটি সাইট থাকা মানে আপনার ক্যারিয়ার বা ব্যবসায় বড় ভুমিকা রাখতে পারা। আজই আপনার কাঙ্খিত ওয়েবসাইট তৈরির কাজ শুরু করে দিন।

আপনার প্রশ্ন

১) সাইট তৈরি করতে প্রতি বছর কেমন খরচ হতে পারে

উত্তর: ডোমেইন ও হোস্টিং এর জন্য প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট ফি দিতে হয় । সাধারণ ভালো মানের সার্ভার সহ বছরে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা লাগতে পারে আপনার প্রাথমিক অবস্থার জন্য এই খরচটি যথেষ্ট।

২) কোড শিখে কি আসলে ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব ?

হ্যাঁ, ওয়ার্ডপ্রেস সাইট তৈরি করা হয়েছে কিছু সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য । এখানে থিম প্লাগিন ব্যবহার করে কোডিং ছাড়াই সব কাজ করতে পারবেন যদি আপনার অভিজ্ঞতা নাও থাকে । বর্তমানে বেশিরভাগ ব্লগ সাইট এভাবেই তৈরি হচ্ছে অভিজ্ঞতা ছাড়াই আপনিও শুরু করে দেখতে পারেন ট্রাই করে।

৩) সাইটের গতি কম হলে কি কি করা উচিত?

গতি বাড়াতে প্রথমে একটি ভালো ক্যাশিং প্লাগিন ব্যবহার করুন যেমন আমি আগেই উপরে বলে দিয়েছি অপ রকেট প্লাগিন এটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন খুব ভালো একটা কাজ করবে আর্টিকেলের ব্যবহৃত ছবির সাইজ ছোট বা কমবেশ করে আপলোড করুন ডিলিট করে দিলে আপনার সাইটের গতি বেড়ে যাবে।

৪) আমার তৈরি সাইট থেকে কি আয় করতে পারব?

হ্যাঁ অবশ্যই তৈরি করতে পারবেন তবে তার জন্য আগে দেখতে হবে আপনার সাইটে নিয়মিত ভালো কনটেন্ট আছে কিনা ভিজিটর নিয়ে আসতে পারেন কিনা এবং কেমন ভিজিটর আসতেছে ট্রাফিক ভালো হলে গুগল এডসেন্স বা এপেলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব এছাড়া নিজস্ব পূর্ণ বিক্রি করতে পারবেন।

৫) কিভাবে সিকিউরিটি নিশ্চিত করবেন ।

আপনার ওয়েবসাইটে সব সময় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত ব্যাকআপ রাখুন থিম প্লাগিন ও ওয়ার্ডপ্রেস এর মূল সংস্করণ সবসময় আপডেট করে রাখতে হবে। সন্দেহজনক কোন প্লাগিন ইন্সটল করবেন না । যদি সন্দেহজনক কোন প্লাগইন ইন্সটল করেন তাহলে আপনার সাইটটি হ্যাকারের হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। সে ক্ষেত্রে সাবধান আপনার সাইটটি হ্যাকার হাত থেকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই উপর থেকে এই প্ল্যানগুলো ইনস্টল করে রাখবেন এবং টু ফ্যাক্টর ভেরিফাই করে রাখবেন।

শেষ কথা

অনেক কষ্ট করে আপনাদের জন্য পোস্টগুলো লিখি যদি ভালো লাগে অবশ্যই একটা কমেন্ট করে যাবেন এরকম নতুন নতুন আরো পোস্ট পেতে অবশ্যই আমাদের ওয়েবসাইট এর সাথে থাকবেন।
ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে এতক্ষণ পর্যন্ত কষ্ট করে আমাদের সাথে থাকার জন্য

Mohammad parvaj

Md Parvaj

Founder, PriyoBlog.com. Sharing simple, high-value content on tech, blogging, and digital income.

Leave a Comment